কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম - কাঠের রং এর দাম

কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করলে দরজাটি হবে মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী। কাঠের মান, ডিজাইন ও সংযুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো শুরুতেই ঠিক করা জরুরি। শক্ত কাঠ যেমন সেগুন বা মাহগনি ব্যবহার করলে দরজার স্থায়িত্ব বাড়বে।
কাঠের-দরজা-বানানোর-নিয়ম-কাঠের-রং-এর-দাম
পাশাপাশি, দরজার আবরণ ও ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে ল্যাকার বা বার্নিশ ব্যবহার করা উচিত। একটি টেকসই দরজার জন্য অবশ্যই মানসম্মত কাঠের দরজা বানানোর উপকরণ নির্বাচন করতে হবে।

কাঠের দরজা বানানোর উপকরণ

একটি মানসম্পন্ন কাঠের দরজা তৈরির জন্য উপযুক্ত কাঠের দরজা বানানোর উপকরণ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। কাঠের ধরন, প্রক্রিয়াজাত উপাদান ও আনুষঙ্গিক ফিনিশিং সামগ্রী দরজার স্থায়িত্ব ও সৌন্দর্য নিশ্চিত করে।

১. কাঠের ধরন
  • শক্ত কাঠ: সেগুন, মাহগনি, শাল কাঠ অত্যন্ত টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী, তবে দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
  • নরম কাঠ: পাইন ও চেরি কাঠ সাশ্রয়ী মূল্যের হলেও এগুলোর যত্ন নেওয়া জরুরি।
২. প্রক্রিয়াজাত উপকরণ
  • প্লাইউড: শক্তিশালী ও আর্দ্রতা প্রতিরোধী, যা দরজার স্থায়িত্ব বাড়াতে সহায়ক।
  • এমডিএফ (Medium Density Fiberboard): সমান মসৃণ পৃষ্ঠের জন্য আদর্শ এবং নকশার বৈচিত্র্য আনতে কার্যকর।
  • লেমিনেটেড কাঠ: মূল কাঠের তুলনায় সস্তা এবং বিভিন্ন স্টাইলের জন্য উপযোগী।
৩. দরজার ফিনিশিং ও আবরণ
  • বার্নিশ: কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখে সুরক্ষা দেয়।
  • ল্যাকার: জলরোধী ও চকচকে ফিনিশ তৈরি করে।
  • ওয়াটারপ্রুফ কোটিং: আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করে এবং দরজার দীর্ঘস্থায়ীত্ব নিশ্চিত করে।
৪. দরজার স্থায়িত্ব ও আনুষঙ্গিক উপাদান
  • স্টেইনলেস স্টিল বা ব্রাসের কবজা: দরজার কাঠামোগত শক্তি বজায় রাখে।
  • উন্নত মানের হ্যান্ডেল ও লক: নিরাপত্তা এবং দরজার কার্যকারিতা বাড়ায়।
একটি ভালো মানের দরজা শুধু নান্দনিকতা বৃদ্ধি করে না, বরং এটি স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার নিশ্চয়তা দেয়। সঠিক কাঠের দরজা বানানোর উপকরণ নির্বাচন করলেই কাঙ্ক্ষিত মানের দরজা পাওয়া সম্ভব।

কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম

কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করলে একটি দরজা শুধু সুন্দর নয়, বরং টেকসই ও কার্যকর হয়। কাঠের মান, কাঠামোগত শক্তি এবং ইনস্টলেশন পদ্ধতি বুঝে এগোলে দীর্ঘস্থায়ী ও মজবুত দরজা তৈরি সম্ভব।

কাঠের সঠিক নির্বাচন
দরজা তৈরির জন্য প্রধানত সেগুন, মাহগনি, শাল এবং পাইন কাঠ ব্যবহার করা হয়। কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম অনুযায়ী, শক্ত কাঠ বেশি টেকসই হলেও ব্যয়বহুল। অন্যদিকে, নরম কাঠ সাশ্রয়ী হলেও বেশি যত্নের প্রয়োজন হয়।
কাঠ কাটিং ও কাঠামো প্রস্তুতি
নকশা অনুযায়ী কাঠ কেটে নিতে হবে এবং ফ্রেম তৈরির সময় কাঠের আর্দ্রতা পরীক্ষা করা জরুরি। কাঠের ফ্রেম ও প্যানেল সঠিকভাবে জোড়া লাগাতে লোহা ও স্ক্রু ব্যবহার করা উচিত।

দরজার আবরণ ও ফিনিশিং
দরজার স্থায়িত্ব বাড়াতে ল্যাকার, বার্নিশ বা ওয়াটারপ্রুফ কোটিং প্রয়োগ করা দরকার। এটি শুধু সৌন্দর্য বাড়ায় না, বরং কাঠের সুরক্ষাও নিশ্চিত করে।
ইনস্টলেশন ও সংযোজন
দরজা ইনস্টল করার সময় কবজা, হ্যান্ডেল ও লকের গুণমান নিশ্চিত করতে হবে। কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম অনুসারে, ভারসাম্য ঠিক রেখে দরজা বসানো দরকার যেন সহজে খোলা-বন্দ হতে পারে।

কাঠের রং এর দাম

কাঠের রং এর দাম বিভিন্ন ব্র্যান্ড, গুণগত মান ও রঙের ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণত, ওয়াটার-বেসড, অয়েল-বেসড এবং ল্যাকার-ফিনিশ রঙের মধ্যে মূল্য পার্থক্য দেখা যায়। প্রিমিয়াম মানের রঙ যেমনঃ পলিউরেথেন বা ইউভি-কোটিং বেশি দামে পাওয়া যায়, তবে এটি দীর্ঘস্থায়ী এবং কাঠকে ভালোভাবে রক্ষা করে।

কাঠের রঙের ধরন ও দাম
  • ওয়াটার-বেসড রংঃ সহজে শুকিয়ে যায়, গন্ধ কম, দাম তুলনামূলক কম (প্রতি লিটার ২০০-৪০০ টাকা)।
  • অয়েল-বেসড রংঃ গভীর রঙ ও মসৃণ ফিনিশ দেয়, দাম ৪০০-৮০০ টাকা প্রতি লিটার।
  • ল্যাকার ও বার্নিশঃ কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখে, দাম ৫০০-১০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
রঙের দাম নির্ভর করে যেসব বিষয়ের ওপর
  • কাঠের ধরনঃ সেগুন বা শাল কাঠের জন্য উচ্চমানের রং দরকার হয়, যা তুলনামূলক ব্যয়বহুল।
  • ব্যবহারের উদ্দেশ্যঃ কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম অনুযায়ী, বাহিরের দরজার জন্য ওয়াটারপ্রুফ রং বেশি কার্যকর।
  • ব্র্যান্ড ও স্থায়িত্বঃ ভালো ব্র্যান্ডের রং তুলনামূলক দামি হলেও দীর্ঘস্থায়ী ও পরিবেশবান্ধব হয়।
সঠিক রঙ নির্বাচন করলে কাঠ শুধু সুন্দর দেখায় না, বরং এটি দীর্ঘদিন টেকসই থাকে। তাই কাঠের রং এর দাম বিচার করে মানসম্মত রঙ বেছে নেওয়া উচিত।

কাঠের দরজার সাইজ

কাঠের দরজার সাইজ নির্ধারণের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাপ ও উপযুক্ত ডিজাইন নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত, বসবাসের সুবিধা ও স্থাপত্যশৈলীর ওপর নির্ভর করে দরজার আকার নির্ধারিত হয়। স্ট্যান্ডার্ড অভ্যন্তরীণ দরজার উচ্চতা সাধারণত ৭-৮ ফুট এবং প্রস্থ ৩০-৩৬ ইঞ্চির মধ্যে থাকে, যেখানে প্রধান প্রবেশদ্বারের দরজাগুলো তুলনামূলকভাবে বড় হয়।
কাঠের-দরজার-সাইজ

স্ট্যান্ডার্ড কাঠের দরজার সাইজ
  • অভ্যন্তরীণ দরজাঃ ৭' x ৩', ৭' x ২.৫', বা ৮' x ৩' (ফুট)
  • বাহ্যিক দরজাঃ ৮' x ৩.৫', ৮' x ৪' (ফুট)
  • ডবল দরজাঃ সাধারণত ৬' x ৭' বা তার বেশি
সঠিক কাঠের দরজার সাইজ নির্ধারণের বিষয়গুলো
  • কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম অনুযায়ী, দরজার আকার অবশ্যই ফ্রেমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
  • দরজার ব্যবহার ও অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে কাঠের ধরন নির্বাচন করা জরুরি।
  • স্লাইডিং বা ডবল দরজা হলে পরিমাপে কিছুটা অতিরিক্ত স্থান রাখা উচিত।
  • ইনসুলেশন ও নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য দরজার পুরুত্ব নির্ধারণ গুরুত্বপূর্ণ।
একটি মানসম্পন্ন ও দীর্ঘস্থায়ী কাঠের দরজা তৈরি করতে অবশ্যই কাঠের দরজার সাইজ সঠিকভাবে মাপা এবং উপযুক্ত কাঠের ব্যবহার নিশ্চিত করা দরকার। সঠিক সাইজ নির্বাচনের মাধ্যমে কাঠের দরজার স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

কাঠের দরজা বার্নিশ করার উপকরণ

কাঠের দরজা বার্নিশ করার উপকরণ সঠিকভাবে নির্বাচন করা দরজার সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বার্নিশ কেবল কাঠের উজ্জ্বলতা বাড়ায় না, এটি পানি, ধুলো ও ক্ষয় প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।

প্রয়োজনীয় উপকরণ
  • বার্নিশ – ওয়াটার-বেসড বা অয়েল-বেসড বার্নিশ দরজার ধরণ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।
  • স্যান্ডপেপার – কাঠের পৃষ্ঠ মসৃণ করতে ১৮০-২২০ গ্রিটের স্যান্ডপেপার দরকার হয়।
  • প্রাইমার বা সিলার – কাঠের ছিদ্র পূরণ করে সমানভাবে বার্নিশ বসানোর জন্য প্রয়োজনীয়।
  • ব্রাশ বা স্প্রে গান – সমানভাবে বার্নিশ প্রয়োগের জন্য উচ্চ মানের ব্রাশ বা স্প্রে ব্যবহার করা হয়।
  • কাপড় ও ক্লিনার – ধুলো পরিষ্কার করে বার্নিশের স্থায়িত্ব বাড়ায়।

কাঠের দরজা বার্নিশ করার নিয়ম

কাঠের দরজা বার্নিশ করার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করলে দরজার সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব দীর্ঘদিন অটুট থাকে। বার্নিশ শুধু কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে না, এটি পানি, ধুলো এবং ক্ষয় থেকে রক্ষাও করে। প্রথমেই দরজার পৃষ্ঠ পরিষ্কার করা জরুরি, যাতে পুরনো রঙ, ধুলো বা তেলজাতীয় কোনো উপাদান না থাকে। এরপর ১৮০-২২০ গ্রিটের স্যান্ডপেপার দিয়ে মসৃণ করে নেওয়া হয়, যাতে বার্নিশ সহজে বসে যায়।
কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম অনুসারে, দরজার কাঠের রন্ধ্র পূরণের জন্য প্রাইমার বা সিলার প্রয়োগ করা উচিত, যা বার্নিশের আস্তরণকে সমানভাবে বসতে সহায়তা করে। এরপর ব্রাশ বা স্প্রে গানের সাহায্যে প্রথম স্তর বার্নিশ লাগানো হয়। এটি সম্পূর্ণ শুকানোর পর একটি সূক্ষ্ম স্যান্ডিং করে দ্বিতীয় স্তর প্রয়োগ করতে হয়, যাতে ফিনিশিং নিখুঁত হয়। প্রয়োজন হলে তৃতীয় স্তরও দেওয়া যেতে পারে।

সঠিক কাঠের দরজা বার্নিশ করার নিয়ম মেনে চললে দরজার উজ্জ্বলতা ও স্থায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। উচ্চমানের বার্নিশ ব্যবহার করলে এটি দীর্ঘসময় টিকে থাকে এবং কাঠের ওপর এক প্রলিপ্ত সুরক্ষা দেয়, যা দরজাকে ক্ষয়প্রবণতা থেকে রক্ষা করে।

পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার উপকরণ

পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার উপকরণ সঠিকভাবে নির্বাচন করলে কাঠের আসবাব নতুনের মতো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সাধারণত, পুরাতন বার্নিশ তুলে নতুন বার্নিশ প্রয়োগ করতে হয়, যাতে ফিনিশিং মসৃণ ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় ভালো মানের স্যান্ডপেপার (১৫০-২২০ গ্রিট), কাঠের ক্লিনার, বার্নিশ রিমুভার এবং প্রাইমার। কাঠের পৃষ্ঠ ভালোভাবে পরিষ্কার করতে অ্যালকোহল বা মৃদু ডিটারজেন্ট ব্যবহার করা হয়, যাতে ধুলো-ময়লা সম্পূর্ণ দূর হয়।

বার্নিশ করার জন্য উচ্চমানের ল্যাকার, পলিউরেথেন বা শেলাক বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাশ, স্পঞ্জ বা স্প্রে গান দিয়ে বার্নিশ প্রয়োগ করা হয়, যাতে এটি সমানভাবে বসে। পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার উপকরণ ব্যবহারের সময় পাতলা স্তর লাগানো উচিত এবং প্রতিটি স্তর শুকানোর পর হালকা স্যান্ডিং করলে চূড়ান্ত ফিনিশিং আরও নিখুঁত হয়।

সঠিক উপকরণ ও প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে পুরাতন আসবাব দীর্ঘস্থায়ী এবং নান্দনিকভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। তাই ফার্নিচারের ধরন অনুযায়ী বার্নিশ ও আনুষঙ্গিক উপকরণ নির্বাচন করা জরুরি, যাতে কাঠের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বজায় থাকে।

পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার নিয়ম

পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার নিয়ম একটি দক্ষ কাজ, যা পুরাতন আসবাবপত্রকে নতুনের মতো উজ্জ্বল এবং সুন্দর করে তোলে। প্রথমে ফার্নিচারের পুরাতন বার্নিশ বা পেইন্ট সরিয়ে ফেলতে হয়। এর জন্য বার্নিশ রিমুভার বা স্যান্ডপেপার ব্যবহার করা যেতে পারে।

এরপর, পৃষ্ঠটি পরিষ্কার করে শুকাতে দিতে হবে, যাতে নতুন বার্নিশ সঠিকভাবে বসে। এরপর, কাঠের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা ও সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য ভাল মানের প্রাইমার ব্যবহার করা উচিত। প্রাইমারের পর, পলিউরেথেন বা ল্যাকার বার্নিশ প্রয়োগ করতে হয়। পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার নিয়ম অনুযায়ী, বার্নিশ লাগানোর সময় পাতলা স্তরে এবং সমানভাবে লাগানো উচিত, যাতে কোনো দাগ বা অসমান ফিনিশিং না হয়।
পুরাতন-ফার্নিচার-বার্নিশ-করার-নিয়ম
বার্নিশ লাগানোর পর, প্রতিটি স্তর শুকানোর পর হালকা স্যান্ডিং করলে সঠিক ফিনিশিং পাওয়া যায়। প্রতিটি স্তর শুকানোর সময় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কাঠের স্থায়িত্ব এবং সৌন্দর্য বাড়ায়। বার্নিশ করার পরে ফার্নিচারের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে এবং এটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত টেকসই হয়।

একটি কাঠের দরজার দাম কত?

একটি কাঠের দরজার দাম নির্ভর করে কাঠের ধরন, ডিজাইন, কারিগরি খরচ এবং ফিনিশিং উপাদানের ওপর। সাধারণত, সাধারণ মানের দরজার দাম ৫,০০০-১২,০০০ টাকা, মাঝারি মানের দরজার দাম ১২,০০০-২৫,০০০ টাকা, আর উন্নত মানের, নকশাকৃত বা বিশেষ কাঠের দরজার দাম ২৫,০০০-৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।

দরজার চৌকাঠের জন্য কোন কাঠ ভালো?

দরজার চৌকাঠের স্থায়িত্ব ও মজবুতির জন্য সেগুন, গামারি, শাল, আকাশমণি ও মাহগনি কাঠ সবচেয়ে ভালো। সেগুন কাঠ বেশি দামি হলেও এটি পানিরোধী ও দীর্ঘস্থায়ী। শাল কাঠ শক্ত ও টেকসই হলেও এর ওজন বেশি। গামারি কাঠ তুলনামূলকভাবে হালকা ও ব্যয়সাশ্রয়ী।

পুরাতন ফার্নিচার কিভাবে বার্নিশ করা যায়?

১. পরিষ্কারকরণঃ প্রথমে পুরাতন বার্নিশ তুলে ফেলতে হবে, এর জন্য স্যান্ডপেপার (১৫০-২২০ গ্রিট) ব্যবহার করুন।
২. ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করুনঃ শুকনো কাপড় বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে ধুলো-ময়লা পরিষ্কার করুন।
৩. প্রাইমার বা সিলার প্রয়োগ করুনঃ এটি বার্নিশের স্থায়িত্ব বাড়াবে।
৪. বার্নিশ প্রয়োগঃ স্প্রে, ব্রাশ বা কাপড় দিয়ে সমানভাবে বার্নিশ লাগান।
৫. সুন্দর ফিনিশিংঃ বার্নিশ শুকিয়ে গেলে আবার স্যান্ডিং করে পরবর্তী লেয়ার লাগান।

বার্নিশ কিভাবে তৈরি করা হয়?

বার্নিশ সাধারণত রেজিন, সলভেন্ট ও শুকানোর এজেন্টের সংমিশ্রণে তৈরি হয়। প্রাকৃতিক বার্নিশের জন্য শেলাক, গাম রেজিন এবং তেল মিশিয়ে তৈরি করা হয়, আর কেমিক্যাল ভিত্তিক বার্নিশে সিন্থেটিক রেজিন ও ন্যাপথা বা মিনারেল স্পিরিট ব্যবহার করা হয়।

কিভাবে ভালো বার্নিশ ফিনিশ করা যায়?

১. ভালো মানের স্যান্ডপেপার ব্যবহার করুনঃ ২৫০-৪০০ গ্রিটের স্যান্ডপেপার ব্যবহার করলে ফিনিশ মসৃণ হয়।
২. পাতলা লেয়ার দিনঃ একসাথে বেশি বার্নিশ না দিয়ে, পাতলা লেয়ার করে কয়েকবার প্রয়োগ করুন।
৩. সঠিক তাপমাত্রা ও পরিবেশে কাজ করুনঃ আর্দ্রতা বেশি হলে বা খুব ঠান্ডা পরিবেশে বার্নিশ ঠিকভাবে বসবে না।
৪. স্প্রে বা ব্রাশের গুণমান ভালো হতে হবেঃ খারাপ মানের ব্রাশ বা স্প্রে ব্যবহারে স্ট্রোকের দাগ থেকে যেতে পারে।
৫. শুকানোর সময় পর্যাপ্ত দিনঃ প্রতিটি লেয়ার সম্পূর্ণ শুকানোর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিন।

উপসংহার

কাঠের দরজা বানানোর নিয়ম অনুসরণ করলে দরজাটি হবে মজবুত, টেকসই এবং নান্দনিক। সঠিক কাঠ নির্বাচন, পরিমাপ অনুযায়ী কাঠ কাটা এবং সংযোজনের ধাপগুলো নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা জরুরি। উপযুক্ত বার্নিশ ও ফিনিশিং দরজার সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বাড়ায়। ইনস্টলেশনের সময় যথাযথ ফিটিং নিশ্চিত করা দরকার, যাতে দরজাটি সহজে খোলে ও বন্ধ হয়। নির্ভুলভাবে নির্মিত কাঠের দরজা বাড়ির সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

AllWoodFixes.Com এর Terms And Conditions মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url