কাঠের টেবিল কিভাবে রং করতে হয় - কাঠের রং তৈরির নিয়ম
কাঠের টেবিল নতুন করে রঙ করলে সেটির সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব দুটোই বাড়ে। তবে কাঠের টেবিল কিভাবে রং করতে হয় তা সঠিকভাবে না জানলে রঙ অসমান হতে পারে বা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। রঙ করার আগে টেবিল ভালোভাবে পরিষ্কার করা, সঠিক প্রাইমার ব্যবহার করা এবং স্তর ধরে রঙ করা জরুরি। অনেকেই জানেন না কাঠের রং তৈরির নিয়ম, তাই বাজারের তৈরি রঙ ব্যবহার করলেও নিজের পছন্দমতো রঙ তৈরি করাও সম্ভব। জলরঙ, অয়েল বেসড রঙ বা স্টেইন যেকোনোটি ব্যবহার করা যায়, তবে কাঠের ধরন অনুযায়ী বেছে নিতে হবে। চলুন ধাপে ধাপে জেনে নিই, কাঠের টেবিল রঙ করার সহজ পদ্ধতি!
কাঠের টেবিল কিভাবে রং করতে হয়
কাঠের টেবিল রং করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খেয়াল রাখতে হয়, যাতে ফলস্বরূপ আপনি একটি সুন্দর ও টেকসই টেবিল পান। কাঠের টেবিল কিভাবে রং করতে হয় তা জানলে কাঠের সৌন্দর্য এবং গুণমান অনেক বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। আসুন, কাঠের টেবিল রং করার সঠিক পদ্ধতিগুলো দেখে নিইঃ
- পরিষ্কার করুন: রং করার আগে প্রথমে কাঠের টেবিলটি ভালোভাবে পরিষ্কার করুন। পুরনো রং বা ময়লা থাকলে সেগুলো তুলে ফেলুন, যাতে নতুন রং সহজে বসতে পারে।
- প্রাইমার ব্যবহার করুন: কাঠের টেবিল রং করার জন্য সঠিক প্রাইমার ব্যবহার করা জরুরি। প্রাইমার রংকে কাঠের সাথে মিশিয়ে দেয় এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়।
- রঙের বাছাই করুন: টেবিলের কাঠের ধরন অনুযায়ী রং বেছে নিন। জলরঙ বা অয়েল বেসড রঙের মধ্যে থেকে যেকোনো একটি নির্বাচন করুন।
- রঙ প্রলেপ দিন: এক স্তরের রঙ প্রয়োগ করার পর, কিছু সময় শুকানোর জন্য রেখে দিন। প্রয়োজনে আরো একটি স্তর প্রয়োগ করুন।
- শুকানোর সময় দিন: রঙ শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় দিন যাতে রং সঠিকভাবে সেট হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
কাঠের টেবিল কিভাবে রং করতে হয় সে সম্পর্কে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললে কাঠের টেবিল রং করার কাজ আরও সহজ হয়ে ওঠে। সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে, আপনি একটি সুন্দর এবং টেকসই ফলাফল পাবেন যা আপনার টেবিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।
কাঠের রং তৈরির নিয়ম
কাঠের রং তৈরির নিয়ম জানা থাকলে আপনি সহজেই কাঠের প্রকৃত সৌন্দর্য বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী রং তৈরি করতে পারবেন। বাজারে তৈরি রং পাওয়া গেলেও, নিজে রং তৈরি করলে কাঠের ধরন, টেক্সচার ও প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিকে কাস্টমাইজ করা যায়। আসুন ধাপে ধাপে দেখে নিই কাঠের জন্য উপযুক্ত রং তৈরির প্রক্রিয়া। কাঠের রং তৈরির ধাপসমূহঃ
- উপকরণ সংগ্রহঃ কাঠের রং তৈরির জন্য মূলত রঙের পিগমেন্ট, থিনার (যেমন টারপেনটাইন বা মিনারেল স্পিরিট), লিনসিড অয়েল ও বার্নিশ প্রয়োজন হয়। কাঠের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন উপাদানের অনুপাত পরিবর্তন করা যেতে পারে।
- পিগমেন্ট মিশ্রণঃ কাঠের স্বাভাবিক রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত রঙের পাউডার বা পিগমেন্ট বেছে নিন। এটি থিনারের সঙ্গে ধীরে ধীরে মিশিয়ে নিন, যাতে কোনো দানাদার অংশ না থাকে।
- বাইন্ডার যোগ করুনঃ রঙের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য লিনসিড অয়েল বা বার্নিশ মেশান। এটি কাঠের গভীরে প্রবেশ করে এবং রঙের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
- সঠিক ঘনত্বঃ রং খুব বেশি ঘন হয়ে গেলে প্রয়োজনে আরও কিছু থিনার যোগ করুন। আবার, খুব বেশি তরল হয়ে গেলে পিগমেন্টের পরিমাণ সামান্য বাড়িয়ে দিন।
- পরীক্ষামূলক প্রয়োগঃ কাঠের একটি ছোট অংশে রঙ প্রয়োগ করে দেখুন, এটি কাঠের ওপর কীভাবে বসছে এবং শুষে নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে রঙের গাঢ় বা হালকা ভাব ঠিক করুন।
- চূড়ান্ত প্রয়োগের আগে সময় নিনঃ মিশ্রিত রং কিছুক্ষণ রেখে দিন যাতে সব উপাদান ভালোভাবে একত্রিত হয়। এরপর কাঠের ওপর প্রলেপ দিন এবং পর্যাপ্ত সময় শুকানোর জন্য রাখুন।
সঠিক পদ্ধতিতে কাঠের রং তৈরির নিয়ম অনুসরণ করলে, আপনার কাঠের টেবিল, দরজা বা অন্যান্য কাঠের আসবাব আরও সুন্দর ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।
কাঠের রং এর নাম
কাঠের আসবাব বা কাঠের যেকোনো কাঠামো রঙ করার সময় উপযুক্ত রঙের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাজারে বিভিন্ন ধরনের রঙ পাওয়া যায়, যা কাঠের ধরন ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে বেছে নেওয়া হয়। কাঠের রং এর নাম এবং বৈশিষ্ট্য জানা থাকলে কাঠের সৌন্দর্য ও স্থায়িত্ব বাড়ানো সহজ হয়। কাঠের জন্য ব্যবহৃত কিছু জনপ্রিয় রঙঃ
- অয়েল-বেসড পেইন্ট – কাঠের গভীরে প্রবেশ করে এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়। বহির্বাড়ির কাঠের কাজে এটি উপযুক্ত।
- ওয়াটার-বেসড পেইন্ট – দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং পরিবেশবান্ধব। অভ্যন্তরীণ কাঠের আসবাবে বেশি ব্যবহৃত হয়।
- ল্যাকার (Lacquer) – কাঠের পৃষ্ঠে মসৃণ ও চকচকে ফিনিশ প্রদান করে। আধুনিক আসবাব ও কাঠের শৈল্পিক কাজে জনপ্রিয়।
- স্টেইন (Stain) – কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখে হালকা রঙের স্তর তৈরি করে। এটি ফার্নিচার ও কাঠের মেঝেতে ব্যবহৃত হয়।
- ভার্নিশ (Varnish) – কাঠের গঠন ও রঙ সংরক্ষণের জন্য আদর্শ, জল ও আর্দ্রতা প্রতিরোধক।
সঠিক কাঠের রং এর নাম জানা থাকলে কাঠের স্থায়িত্ব ও নান্দনিকতা রক্ষা করা সহজ হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী রঙ নির্বাচন করলে কাঠ দীর্ঘদিন সুন্দর ও সুরক্ষিত থাকবে।
কাঠের রং এর দাম
বাংলাদেশের বাজারে কাঠের রঙের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে, বিশেষ করে আসবাবপত্র, দরজা, জানালা এবং কাঠের মেঝের জন্য। রঙের গুণগত মান, ব্র্যান্ড, এবং কাঠের ধরন অনুযায়ী কাঠের রং এর দাম ভিন্ন হয়ে থাকে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের বিভিন্ন রঙ পাওয়া যায়, যা সাধারণত ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। বাংলাদেশে কাঠের রঙের দাম ও ধরনঃ
- অয়েল-বেসড রং – গভীরে প্রবেশ করে কাঠের স্থায়িত্ব বাড়ায়, দাম ৮০০-২,৫০০ টাকা প্রতি লিটার।
- ওয়াটার-বেসড রং – দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং গন্ধ কম, দাম ৬০০-২,০০০ টাকা প্রতি লিটার।
- স্টেইন (Stain) – কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে, দাম ৭০০-৩,০০০ টাকা প্রতি লিটার।
- ল্যাকার (Lacquer) – উজ্জ্বল ফিনিশের জন্য ব্যবহৃত হয়, দাম ১,০০০-৪,০০০ টাকা প্রতি লিটার।
- ভার্নিশ (Varnish) – কাঠের উপরিভাগ রক্ষা করে, দাম ৫০০-২,৫০০ টাকা প্রতি লিটার।
সঠিক কাঠের রং এর দাম জানা থাকলে বাজেট অনুযায়ী মানসম্মত রং বেছে নেওয়া সহজ হয়। বাংলাদেশে বাজার অনুসারে দামের হেরফের হতে পারে, তাই কেনার আগে বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে দাম যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
কাঠের বার্নিশ কালার
কাঠের আসবাব ও কাঠের মেঝের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বার্নিশের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু কাঠের উপরিভাগকে চকচকে ও মসৃণ করে না, বরং কাঠকে পানি, আর্দ্রতা ও দাগ থেকে সুরক্ষিত রাখে। বিভিন্ন ধরনের কাঠের বার্নিশ কালার পাওয়া যায়, যা কাঠের প্রকৃতি এবং ব্যবহারের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্বাচন করা হয়। স্বচ্ছ (Clear) বার্নিশ কাঠের প্রাকৃতিক রঙ বজায় রেখে উজ্জ্বলতা যোগ করে, যা বিশেষ করে প্রাকৃতিক কাঠের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। গোল্ডেন ওক (Golden Oak) হালকা বাদামি আভা দেয়, যা সাধারণত ফার্নিচারের জন্য আদর্শ।
গাঢ় লালচে-বাদামি মহগনি (Mahogany) রঙ বিলাসবহুল কাঠের জন্য বেশ জনপ্রিয়। ডার্ক ওয়ালনাট (Dark Walnut) গভীর বাদামি রঙ প্রদান করে, যা পুরাতন কাঠকে নতুন লুক দিতে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া, টিক উড (Teak Wood) হালকা ও গাঢ় বাদামির মিশ্রণ তৈরি করে, যা সাধারণত মেঝে ও দরজার জন্য উপযুক্ত। কাঠের প্রকৃতি এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী সঠিক কাঠের বার্নিশ কালার নির্বাচন করলে কাঠের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায় এবং এটি দীর্ঘদিন সুন্দর থাকে। তাই কাঠের রং ও গুণগত মান বজায় রাখতে মানসম্মত বার্নিশ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কাঠের দরজার রং করার নিয়ম
কাঠের দরজায় রঙ করার মাধ্যমে ঘরের নান্দনিকতা বাড়ানো যায় এবং দরজার আয়ু দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয়। তবে কাঠের দরজার রং করার নিয়ম ঠিকভাবে না জানলে রঙ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সঠিক উপকরণ ও পদ্ধতি ব্যবহার করলে কাঠের দরজা মসৃণ, উজ্জ্বল ও টেকসই হবে।
প্রথম ধাপে দরজাটি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। ধুলাবালি ও পুরনো রঙের আস্তরণ থাকলে স্যান্ডপেপার দিয়ে ঘষে তুলে ফেলতে হবে। এরপর, কাঠের ফাইবারের গভীরে রঙ বসানোর জন্য একটি উচ্চমানের প্রাইমার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। প্রাইমার শুকিয়ে গেলে কাঠের দরজার রং করার নিয়ম অনুযায়ী উপযুক্ত রঙ নির্বাচন করতে হবে। বাড়ির অভ্যন্তরীণ দরজার জন্য লাইট শেড যেমন সাদা, অফ-হোয়াইট বা কাঠের স্বাভাবিক রঙ উপযুক্ত, আর বাহিরের দরজার জন্য ওয়াটারপ্রুফ ও আবহাওয়া-সহনশীল রঙ ব্যবহার করা ভালো।
রঙ করার জন্য ব্রাশ, রোলার বা স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথম স্তর প্রয়োগের পর সেটি ভালোভাবে শুকাতে দিতে হবে, তারপর দ্বিতীয় স্তর প্রয়োগ করলে রঙ আরও মসৃণ হবে। সর্বশেষ, বার্নিশ বা ল্যাকার প্রয়োগ করলে দরজার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং রঙ দীর্ঘস্থায়ী হবে। সঠিকভাবে কাঠের দরজার রং করার নিয়ম অনুসরণ করলে আপনার দরজাটি শুধু চমৎকার দেখাবে না, বরং বছরের পর বছর ধরে অক্ষত থাকবে।
পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার নিয়ম
পুরাতন কাঠের ফার্নিচার নতুনের মতো চকচকে ও মসৃণ করে তুলতে পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার নিয়ম জানা জরুরি। সঠিক উপায়ে বার্নিশ না করলে কাঠের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে এবং দীর্ঘস্থায়ী ফলাফল পাওয়া যায় না। এজন্য ধাপে ধাপে কাজ করা দরকার, যাতে ফার্নিচারের আসল সৌন্দর্য বজায় থাকে।
প্রথমে, কাঠের ফার্নিচারের ওপর জমে থাকা ধুলাবালি ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হবে। যদি পুরনো বার্নিশের স্তর বেশি পুরু হয়, তাহলে স্যান্ডপেপার দিয়ে ঘষে তা তুলে ফেলতে হবে। এরপর, কাঠের গায়ে সামান্য কাঠের ফিলার ব্যবহার করা যেতে পারে, যাতে ছোট ফাটল বা দাগ ঢেকে যায়। পরবর্তী ধাপে, কাঠের প্রাকৃতিক শেড অনুযায়ী উপযুক্ত বার্নিশ নির্বাচন করতে হবে। ওয়াটার-বেসড বার্নিশ দ্রুত শুকায়, আর অয়েল-বেসড বার্নিশ বেশি টেকসই।
বার্নিশ প্রয়োগের জন্য উচ্চমানের ব্রাশ বা স্প্রে ব্যবহার করতে হবে। প্রথম স্তর লাগানোর পর সেটি সম্পূর্ণ শুকাতে দিন, তারপর দ্বিতীয় স্তর প্রয়োগ করুন। এতে বার্নিশ সমানভাবে বসবে এবং কাঠের ফিনিশিং আরও সুন্দর দেখাবে। সঠিকভাবে পুরাতন ফার্নিচার বার্নিশ করার নিয়ম অনুসরণ করলে ফার্নিচার শুধু উজ্জ্বল দেখাবে না, বরং আরও বছর বছর ধরে টেকসই থাকবে।
বার্নিশ করতে কি কি লাগে?
বার্নিশ করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট উপকরণ প্রয়োজন। প্রথমে কাঠের ফার্নিচার পরিষ্কার করতে হবে। তার পর, বার্নিশ বা সিলার প্রয়োগ করতে একটি ভালো মানের ব্রাশ বা স্প্রে মেশিন ব্যবহার করতে হবে। কাঠের ওপর পুরানো রং বা বার্নিশ থাকলে, স্যান্ডপেপার দিয়ে তা ঘষে তুলে ফেলতে হবে। এরপর, কাঠের কাঠামো সমান রাখার জন্য কাঠের ফিলার বা গ্লু ব্যবহার করতে পারেন। শেষ পর্যন্ত, বার্নিশ লাগানোর পর শুকানোর জন্য কিছু সময় দিতে হবে।
কাঠের ফার্নিচার কোন ধরনের পেইন্ট?
কাঠের ফার্নিচারের জন্য সাধারণত দুটি ধরনের পেইন্ট ব্যবহার হয়—অয়েল-বেসড পেইন্ট এবং ওয়াটার-বেসড পেইন্ট। অয়েল-বেসড পেইন্ট টেকসই হয় এবং কাঠের কাঠামোকে মসৃণ করে, তবে এতে শুকানোর সময় বেশি লাগে। অন্যদিকে, ওয়াটার-বেসড পেইন্ট দ্রুত শুকায় এবং এর ব্যবহার অনেক সহজ। তবে, কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে স্টেইন বা ওয়ান-কোট ফিনিশ ব্যবহার করা ভালো।
ফার্নিচারে কয়টি পেইন্ট করা হয়?
ফার্নিচারে সাধারণত দুইটি স্তর পেইন্ট করা হয়। প্রথম স্তর শুকানোর পর যদি প্রয়োজন হয়, দ্বিতীয় স্তর প্রয়োগ করা হয়। এতে পেইন্টের সমান প্রস্থে বসে এবং কাঠের ফিনিশিং মসৃণ হয়। বার্নিশ বা পেইন্টের স্তরের উপর ভিত্তি করে, কিছু ক্ষেত্রে তৃতীয় স্তরও লাগানো যেতে পারে, তবে সাধারণত দুইটি স্তরই যথেষ্ট।
উপসংহার
কাঠের টেবিল কিভাবে রং করতে হয় সে বিষয়ে কিছু সহজ এবং কার্যকরী নিয়ম মেনে চললে আপনি পেতে পারেন একটি সুন্দর ও টেকসই রঙের ফলাফল। সঠিক প্রস্তুতি, রঙের নির্বাচন, এবং পর্যাপ্ত শুকানোর সময় নিশ্চিত করবে কাঠের টেবিলের দীর্ঘস্থায়িত্ব। কাঠের রং তৈরির নিয়ম মেনে কাজ করলে কাঠের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় থাকবে এবং রঙ আরও মসৃণ ও সুরক্ষিত হবে। সময় নিয়ে, যত্ন সহকারে এই কাজটি করলে টেবিলটি অনেক দিন ধরে নতুনের মতো থাকবে। তাই কাঠের রঙ করার প্রতিটি ধাপ ভালোভাবে অনুসরণ করা উচিত। এতে কাঠের টেবিল থাকবে দীর্ঘকালীন ব্যবহার উপযোগী।
AllWoodFixes.Com এর Terms And Conditions মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url